গল্প

ভালোবাসার ফোড়ন পর্ব ২৭

মিমি মুসকান

উনার এমন নিস্তব্ধতা দেখে আমি সামনে তাকালাম। দেখি একটা মেয়ে, দেখতে খুব স্মার্ট আর অনেক সুন্দরী। নিতির থেকেও! তার সাথে একটা ছোট বাচ্চাও আছে দেখে মনে হচ্ছে ৪ কি বা ৫ বছর হবে, উনি তার সামনে হাঁটু গেড়ে কথা বলছেন। আমি উনার দিকে তাকালাম দেখি উনার কপালে ছোট্ট ছোট্ট বিন্দু জমাট হচ্ছে। উনি আমার হাত আরো শক্ত করে ধরলেন। আমিও তাকিয়ে আছি তাদের দিকে। আমি উনাকে জিজ্ঞেস করে…
কারা এরা আপনি চিনেন তাদের!
আমার কথায় উনি উওর না দিয়ে তাকিয়ে আছে। কিছুক্ষণ পর একটা লোক আসল তাদের কাছে। লোকটার অবস্থা আসলেই বেহাল। এক হাতে ছোট একটা শিশু, আর অন্য হাতে অনেকগুলো শপিং ব্যাগ। তার পিছে পিছে শার্টের নিচ ধরে আসছে আরেকটা বাচ্চা। ওকে দেখতে হুবহু ওই মেয়েটার বাচ্চা’র মতো। মনে হচ্ছে যময।‌ তার মানে এই লোকটা মেয়েটার স্বামী আর ওদের বাবা।‌ এবার উনার দিকে তাকালাম। দেখি উনার চোখ বড় বড় হয়ে গেছে। সাংঘাতিক ভয় পেয়েছেন উনি! আমি আবার উনাকে জিজ্ঞেস করলাম…
কি হলো!

উনি সাথে সাথে আমাকে নিয়েই অন্য দিক দিয়ে চলে গেলেন। আমি বলতে লাগলাম…
আরে এখানে কোথায় যাচ্ছেন! এটা তো বাচ্চাদের কালেকশন। আমাদের তো ওখানে যাবার কথা।
চুপ করো তুমি!
আমি উনার হাত ছেড়ে সামনে দাঁড়িয়ে বলি..
ভয় পেয়ে আছেন!
ভ্রু কুঁচকে বললেন..
ভয় কেন পাবো!
তাহলে এভাবে চলে এলেন কেন? মেয়েটাকে চিনেন আপনি!
না চিনি না চলো এখন!
বলেই চলে যেতে নিলেন।‌ আমি বলে উঠি…
তাহলে আমার কেন মনে হচ্ছে এটা আপনার এক্স ক্রাশ!

উনি দাঁড়িয়ে গেলেন। পেছনে ফিরে বললেন…
অনেক বেশি কথা বলো তুমি!
বলেই হাঁটতে লাগলেন। আমি দৌড়ে তার পাশে হাঁটতে হাঁটতে বলতে শুরু করি..
তার মানে এটা সত্যি’ই আপনার এক্স ক্রাশ! বলেই হাসতে লাগলাম। উনি কিছু বলছেন না কিন্তু অনেক বিচলিত লাগছে উনাকে দেখতে।
আমি আবার বলতে শুরু করি…
কিন্তু বলতে হবে আপনার এক্স ক্রাশ কিন্তু সত্যি’ই সুন্দরী। অনেক সুন্দর তিনি। আর তার বাচ্চারাও! দুটো যময আর একটা ছোট কিউট বাচ্চা। আচ্ছা একটা কথা ভাবুন তো! যদি ওই লোকের জায়গায় আপনি থাকতেন তো! তাহলে এতো দিনে ৩ বাচ্চার বাবা হয়ে যেতেন।

ওর হাত ধরে জোরে জোরে হাসতে লাগলেন। উনি কোনো কথাই বলছেন। আমি এবার উনার সামনে দাঁড়িয়ে বলি…
কিছু বলছেন না যে কি হলো। কথা গুলো কিন্তু সত্যি। এমনে তে ওখানে আপনাকে ইমেজিং করতে মন্দ লাগছে না।
হঠাৎ উনি আমার দুই বাহু চেপে বলেন…
ফাজলামো বন্ধ করো।
কেন কষ্ট লাগছে।
দিন দিন পাকনা ভূতনি হয়ে যাচ্ছো।
হ্যাঁ এখন সত্যি’ কথা বললেই তো আমি ভূতনি নাহ!
তোমার ইচ্ছে হলে এখানে দাঁড়িয়ে বক বক করো আমি গেলাম। বলেই হাঁটতে লাগলেন আর আমি উনার পিছনে পিছনে দৌড়াতে লাগলাম।

শপিং করে আমি ব্যাগ গোছাতে গোছাতে আসতে থাকি। তখন হুট করেই কারো সাথে ধাক্কা খেয়ে সব ব্যাগ পরে যায়। তাকিয়ে দেখি একটা ছেলে আমার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছে। আজব তো সরি টরি কিছু না বলে হা করে তাকিয়ে আছে। বিরক্ত লাগছে কিন্তু কিছু বললাম না। নিজেই ব্যাগ গুলো তুলতে লাগলাম। তখন ছেলেটার বোধ হলো। সে আমার সাথে ব্যাগ তুলতে তুলতে বলে…
সরি মিস আমি খেয়াল করি নি!
ইট’স ওকে! কিন্তু আমি মিস না মিসেস।
বলেই তার হাত থেকে ব্যাগ গুলো নিলাম। ছেলেটা বলল..
তাতে কি যায় আসে!

যার আসে তার আসে। আনিওয়ে Thank you.
বলেই চলে আসতে নিলাম। ছেলেটা পিছ বলল …
ওয়েলকাম মিসেস!
আমি একবার ভাবলাম পিছনে তাকাবো কিন্তু ছেলেটার হাবভাব ভালো না তাই আর তাকালাম। তখন’ই উনি আসলেন। এসে আমার হাত ধরে নিয়ে গেলেন। উনি নিজের জিনিস কেনার কথা বলে আমার জন্যে একগাদা কিনলেন কিন্তু সেটা উনার পছন্দের।
দুজনেই এসে গাড়িতে বসলাম। আমার মাথায় আবারও উনার এক্স ক্রাশ এর কথা ঘুরপাক খাচ্ছে। আমি মিটিমিটি হাসতে লাগালাম। উনি গাড়ির সিটবেল বাধছিলেন।‌ আমি উনার দিকে ফিরে বলি….
আচ্ছা আপনি নিজেকে ওই লোকটার জায়গায় ইমেজিং করেছিলেন তো। ভালোই হতো না তাহলে আপনি এতো দিনে তিন বাচ্চার বাবা হয়ে যেতেন। ইশ্…

উনি হঠাৎ আমার ঠোঁটে আঙ্গুল দিলেন। আমি চুপ হয়ে চোখ বড় বড় করে উনার দিকে তাকিয়ে আছি। উনি বললেন..
চুপ আর একটা কথা না ঠিক আছে। অনেক বলেছো। এখন চুপ!
উনার কথায় আমি মাথা নাড়লাম। উনি হাত সরিয়ে নিলেন। আমি গাড়িতে ‌চুপচাপ বসে পড়লাম কারন আমার শরীর কাঁপছে। উনি আবার আমাকে ছুঁয়েছেন! আমার একদম’ই ভালো লাগছে না। হঠাৎ উনি আমার সামনে একটা চকলেট রেখে বললেন..
খাও নাহলে তোমার মুখ ব্যাথা করবে।

আমি হেসে উনার থেকে চকলেট নিয়ে খেতে শুরু করলাম।
আজ আনিকার গায়ে হলুদ, ভার্সিটিতে যাওয়া হয় নি। হয় নি বলতে আহিয়ান যায় নি তাই আমাকেও যেতে দেন নি। ঘরে একা একা বসে আছি। উনি গেছেন আনিকার বাসায়।‌ হঠাৎ করেই ফোন বেজে উঠল। স্কিনে তাকিয়ে দেখি ইতি কল করেছে। আমি রিসিভ করে খানিকক্ষণ কথা বললাম। ও বললো এখন আমার বাসায় আসবে আর বিকালে আকাশ ভাইয়া আমাদের নিয়ে যাবে। যাক ভালো এখন ওর সাথে বক বক করে সময় কেটে যাবে।
বিকালে আমি রেডি হয়ে বসে আছি কিন্তু ইতি ম্যাডামের সাজা এখনো হয় নি। প্রায় দু”ঘন্টা হলো বসে সাজগোজ’ই করছে। আমি সেই কখন শাড়ি পড়ে বসে আছি। খানিকক্ষণ পর ইতি আয়ানার সামনে থেকে উঠলো। নাহ বেশ লাগছে ওকে। হলুদ রঙের স্লিক একটা শাড়ি, মুখে একটু মেকাপ, মাথায় ফুলের খোঁপা দারুন। আমি ওর সামনে দাঁড়িয়ে কানের পিছনে কাজল লাগিয়ে বলি…
আজ যেন কারো নজর না লাগে তোর ওপর। ইশ্ ভাইয়া তোর প্রেমে আজ ফিদা হয়ে যাবে।

হ্যাঁ তা তো হবে কিন্তু আজ আমার ভাইয়া হয়তো অন্য মেয়ের প্রতি ফিদা হবে!
এই কথা শুনে আমি আর ইতি দরজার দিকে তাকালাম। দেখি আপু দাড়িয়ে আছে। আপু হেসে ভিতরে ঢুকলেন। অতঃপর বলতে শুরু করলেন…
মাশাআল্লাহ! ইতি কে সত্যি’ই বেশ সুন্দর লাগছে। কিন্তু নিহা তুমি এতো সাদা মাটা কেন?
আপু আমার এমন’ই ভালো লাগে!
তাই বলে এমন, চোখে কাজল নেই, ঠোঁটে রং নেই, চুলে ফুল নেই এমন কেন? তুমি তো আমার ভাইয়ের মান সম্মান খাবে মনে হচ্ছে।

ইতি বলে উঠে…
আপু এখন তুমি বোঝায়। আমি হাঁপিয়ে গেছি বোঝাতে বোঝাতে।
সেটাই তো দেখছি! কিন্তু শাড়ি টা বেশ, তবে তোমার সাজের সাথে মানাচ্ছে না। বসো এখানে। আচ্ছা আহি তোমাকে অর্নামেনস কিনে দেয় নি
হ্যাঁ দিয়েছে।
পরোনি কেন?
পরবো! মানে একটু পর পরতাম আর কি!
হয়েছে রাখো তোমার একটু পর।
আরে আপু সত্যি’ই‌‌ একটু‌ পর পরতাম আমি।
আপু আমার হাতটা ধরে আয়নার সামনে বসিয়ে দিয়ে বলেন….
খানিকক্ষণ চুপ করে বস এখানে।

অতঃপর আমি আর কথা বললাম না। তারা দুজন এবার আমাকে নিয়ে পরল তবে আমি বেশি সাজগোজ করবো না। আমাকে সাজাতে শুরু করল। চোখে গাঢ় কাজল , চুল গুলো খোঁপা করে ফুল বেঁধে দিল। তার সাথে কিছু অর্নামিনস পড়ে আমি একদম রেডা।‌ বলেই উঠে দাঁড়ালাম।‌ আপূ আমাকে আবার বসিয়ে দিয়ে বলেন…
লিপস্টিক লাগানো হয় নি বসো।
আপু আমি আর কিছু দেবো না

– আরে শুধু এটা দেবো। দিতে আর‌ কতোক্ষণ।
অতঃপর আমার ঠোঁটে, হালকা করে গোলাপি রঙের লিপস্টিক দিয়ে দিল।‌ আকাশ ভাইয়া চলে আসল। আমরা আনিকার বাসায় যাবার জন্য বের হলাম।
আনিকার বাসায় এসে গাড়ি থামল। ওদের বাড়ি
দেখে আমি অবাক। পুরো বাড়ি টা ফুলা দিয়ে ডেকোরেট করা। বাড়ির ভিতর ঢুকতে যাবো দেখি দরজর সামনে উনি আসলেন। আমার শাড়িটা সাথে ম্যাচ করে একটা হলুদ পাঞ্জাবি আর সাদা পাজামা। খুব হ্যান্ডসাম লাগছে আজ তাকে। কেন জানি না কিন্তু সত্যি খুব সুন্দর লাগছে উনাকে। উনি এসে আমাকে…
ঠিক মতো এসেছো তো!
হুম!

চলো ভিতরে চলো। আকাশ তুইও আয় ( বলতে গিয়ে তাকিয়ে দেখে দুজনেই সেলফি দিতে ব‌্যস্ত।‌ )
আমি আর উনি হেসে দিলাম অতঃপর ওদের রেখে আমরা ভিতরে গেলাম। কারন ওদের অনেক দেরি হবে। উনি আমাকে নিয়ে যাচ্ছেন আর বলতে শুরু করেন….
এতো সেজেছো কেন?

সাজলাম কোথায়?

এই যে মাথায় ফুল, তুমি তো কখনো চুল বাধো না আজ কেন বাঁধলে!- মন চাইলো তাই!
না খুলে ফেলো!
কেন?
ভাল লাগছে না
কিন্তু এখানে কিভাবে?
এখানে আসো আমার সাথে!
বলে আমাকে একটা ঘরে নিয়ে গেলেন। অতঃপর আমাকে পিছিয়ে ঘুরিয়ে ‌আমার চুল দেখে ‌ফুল টা খুলে ফেলল। আমি চুল গুলো মাঝে সিঁথি করে নিলাম। আমি তাকিয়ে বললাম…
– ঠিক আছে এখন!

উনি মাথা নাড়লেন যার অর্থ না।
এখন আবার কি হলো?
উনি পেছন থেকে একটা কাঠগোলাপ বের করে আমার কানে গুঁজে দিয়ে বললেন…এখন ঠিক লাগছে তোমায়।‌পুরো খাঁটি ভূতনি!
আমি মুখ ভেংচি দিয়ে বেরিয়ে আসলাম। ইশ আপু কতো সুন্দর করে খোঁপা করে দিলো আর উনি সেটা খুলে ফেললেন। ভাবতে ভাবতে হাঁটতে লাগলাম। হঠাৎ কেউ আমাকে ” এই মিসেস” বলে ডাকল। আমি খানিকটা অবাক হয়ে পেছনে তাকালাম। দেখি ওই শপিং মলের ছেলেটা কিন্তু এখানে কি করে। ছেলেটা আমার কাছে এসে জিজ্ঞেস করল…
তুমি এখানে?
গেস্ট হিসেবে এসেছি!
ওহ আচ্ছা। আর আমি..
আমি তো জিজ্ঞেস করে নি
ওপস সরি!
হুম বাই ‌
আরে শোন তো!

কে শুনে কার কথা। আমি হেঁটে চলে আসলাম। কি রকম গায়ে পড়া ছেলেটা। আমি হাঁটতে হাঁটতে বাড়ির দ্বিতীয় তলায় এসে পড়লাম।‌ হঠাৎ করেই সামনে তাকিয়ে দেখি নিতি। ও‌ এমনেতেই অনেক সুন্দরী তবুও আজ অনেক মেকআপ করেছে। তাও সুন্দরী লাগছে। তার সাথে টিনা’র প্রায় একই অবস্থা। দু’জনেই আমার সামনে দাঁড়ানো। হঠাৎ নিতি বলে ওঠে…
খবর কি তোমার?

মানে আপু?

ইদানিং খুব বেশি ঘুরছো আহি’র সাথে! কাল নাকি ওর সাথে শপিং করতে গিয়েছিলে!
নিতি’র কথা শুনে আমার চক্ষু চড়কগাছ! আমি কি বলবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না। নিতি কিভাবে জানলো আমি শপিং মলে গিয়েছিলাম তাও আহিয়ান এর সাথে। হুট করেই কেউ বলে উঠল..
কি এতো ভাবছেন মিসেস!

আপনি!
হুম আমি!

এতোক্ষণে আমি বুঝলাম আহিয়ান এর কথা কে বললো। এই ছেলে’টা আহিয়ান কে চিনে এটা তো আমি জানতামই না।
ছেলেটা আবার বলল…
এখন কি আমার পরিচয় টা দেবো।
কপাল কুঁচকে তাকালাম। ছেলেটা হেসে বলল..
আমি তোমার ফ্রেন্ড টিনা’র ছোট ভাই, বাট আমি আর তুমি সেম ক্লাস!
হঠাৎ নিতি বলে উঠল.. কাল ওই তো ছিলো না আহি’র‌ সাথে, তুই ঠিক দেখেছিলি তো!
আমি কিছু বলবো তার আগে পেছন থেকে ইতি বলে উঠে…
আপু শপিং মলে কিন্তু সবাই যায়, হতেই পারে সেখানে দেখা হয়েছে এটা নিয়ে এতো হাইপার হওয়ার কিছু নেই!
নিতি আর টিনা পিছনে ঘুরল। আমি কিছু বললাম না। কিন্তু নিতি কিছু বলতে চাইলো তখন ইতি এসে আমার হাত ধরে ওদের সামনে থেকে নিয়ে গেল। ওরা কিছু বলার সুযোগ পেলো না।

ইতি আর আমি ছাদে যাচ্ছি কারন গায়ে হলুদ ছাদে হবে। ইতি বলতে শুরু করল…
তুই ওদের মুখে মুখে কথা বলতে পারিস না। দেখবি একবার বললে আর কিছু বলবে না!
বাদ দে না আজকের দিনে ঝামেলা’র দরকার নেই।
কিন্তু ওরা করবে। আমি সেদিন শুনেছি ওরা কিছু একটা করবে, তাই তোকে বিয়েতে ইনভাইট করেছে। তুই কি ভাবিস এমনে এমনে তোকে ওরা ইনভাইট করেছে। তোকে বলে দিলাম সবসময় আমার সাথে থাকবি। বুঝলি!
আচ্ছা ঠিক আছে চল এখন!

ছাদে এসে দেখি মানুষে গমগম করছে চারদিক। এক পাশে অনেক সুন্দর করে স্টেজ সাজানো সেখানে আনিকা আপু বসে আছে।‌‌আমি দূর থেকেই দেখলাম আর কাছে গেলাম না। হঠাৎ ইতি আমার মুখ ঘুরিয়ে নিজের কাছে নিয়ে বলল..
এটাতো আমি খেয়াল’ই করে নি। চুলের ধরন তো এমন ছিলো না। ব্যাপার টা কি রে?আবার এই কাঠগোলাপ! সামথিং সামথিং মনে হচ্ছে কেন?
ঘোড়ার মাথা এমন কিছু না। উনার ভালো লাগছিলো না বলে উনি এমন করলেন। এটা তেমন ব্যাপার না।

আচ্ছা তেমন ব্যাপার না তবে অন্য ব্যাপার তা আপনার স্বামী পরমেশ্বর কোথায়?
জানি না!
হঠাৎ দেখলাম উনি আসছেন। তার হাতে একটা ক্যামারা হয়তো আনিকা আপুর ছবি তোলার জন্য এনেছে। ইতি আমাকে খোঁচা মেরে বলল…
বাহ সেম সেম ‌কালার, হুমম ভালোই!
হ্যাঁ ভালোই তো!
আনিকা আপুর কাছে গিয়েছিলাম। হেসেই কথা বললো আমার সাথে। বলল আমি এসেছি বলে অনেক খুশি হয়েছেন তিনি। ভালোই লাগল। উনি ছবি তুলতে ব্যস্ত। দূরে ওই ছেলেটাকে দেখলাম। একবার দেখলাম বার বার এখানেই তাকিয়ে আছে। বিরক্ত লাগছে। হঠাৎ নিতি আপু এসে আমাকে বলল হলুদের থালা টা নিয়ে আসতে গায়ে হলুদ হবে এখন। হলুদের থালা ওপাশে টেবিলে আছে এটা বলেই আপু চলে গেলো। মনে হচ্ছিল খুব তাড়াহুড়ো’ই ছিল। তাই আমি হলুদের থালা টা নিয়ে যেতে গেলাম।

ওখানে খুব ভিড় ছিলো। আমি থালা নিয়ে আসতে নিলাম হুট করেই মনে হলো কেউ ধাক্কা মারল। আমি পড়ে যেতে নিলাম। ভয়ে চোখ বন্ধ করে নিলাম। খানিকক্ষণ পর মনে হলো সব নিস্তব্ধত। খুব চেনা চেনা গন্ধ আসছিলো। তাকিয়ে দেখি আমি উনার বুকের মধ্যে আছি। উনি হালকা ভাবে আমাকে ধরে আছে। সবার নজর আমাদের দিকে। থালা টা হাতেই আছে পরে নি। উনি আমাকে বলল…
ঠিক আছো তুমি।

আমি মাথা নেড়ে ঠিক হয়ে দাঁড়ালাম। ইতি এসে আমার পাশে দাঁড়াল। উনি ওখান থেকে চলে গেলেন। পিছনে আমি সেই ছেলেটাকে দেখলাম। মুখ টা কেমন বেজার। নিতি আমার হাত থেকে থালা টা নিয়ে গেল। ইতি আমাকে টেনে এক পাশে নিয়ে গেল।‌ বলল..”এটা নাকি নিতি আর টিনা প্ল্যান ছিলো। তারা প্ল্যান করে ওই ছেলেটার কাছে তোকে ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু মাঝে ভাইয়া এসে তোকে ধরে ফেলল।”
ইতি কথা শুনে খুব রাগ হচ্ছিল কিন্তু কিছু বললাম না। চুপচাপ থাকলাম। গায়ে হলুদ শুরু হলো! গান বাজনা চলতে লাগল। দেখলাম উনি গিটার হাতে নিয়ে গান শুরু করল…

ফুলে পাইলা ভ্রমরা
কৃঞ্চ আইলা রাধার কুঞ্জে
ফুলে পাইলা ভ্রমরা
ময়ুর বেশেতে সাজুইন রাধিকা
ময়ুর বেশেতে সাজুইন রাধিকা

( উনি ইতি কে টেনে নিয়ে গেল। সবাই নাচতে শুরু করল )

কৃঞ্চ আইলা রাধার কুঞ্জে
ফুলে পাইলা ভ্রমরা
কৃঞ্চ আইলা রাধার কুঞ্জে
ফুলে পাইলা ভ্রমরা
ময়ুর বেশেতে সাজুইন রাধিকা
ময়ুর বেশেতে সাজুইন রাধিকা।।

( ইতি এসে আমাকে টেনে নিয়ে গেল। উনি আমার চারপাশে গিটার হাতে নিয়ে ঘুরছিলো। আমি গান গাইলাম….

সোয়া চন্দন ফুলের মালা
সখিগণে লইয়া আইলা
সোয়া চন্দন ফুলের মালা
সখিগণে লইয়া আইলা
কৃঞ্চ দিলাই রাধার গলে
বাসর হইল উজালা….
বাসর হইল উজালা গো
বাসর হইল উজালা
ময়ুর বেশেতে সাজুইন রাধিকা
ময়ুর বেশেতে সাজুইন রাধিকা।

( উনি গাইতে শুরু করলেন। সবাই একসাথে নাচতে শুরু করলাম…

রাধাই দিলা কৃঞ্চের গলে
কৃঞ্চ দিলাই রাধার গলে
রাধাই দিলা কৃঞ্চের গলে
আনন্দে সখিগণ নাচে
দেখিয়া প্রেমের খেলাই….
দেখিয়া প্রেমের খেলাই গো
দেখিয়া প্রেমের খেলা
ময়ুর বেশেতে সাজুইন রাধিকা
ময়ুর বেশেতে সাজুইন রাধিকা।

নাচে গায়ে খেলে তারা
কৃঞ্চ প্রেমের প্রেমিক যারা
নাচে গায়ে খেলে তারা
কুল ও মানের ভয় রাখে না
ললিতা আর বিশখা….
ললিতা আর বিশখা গো
ললিতা আর বিশখা
ময়ুর বেশেতে সাজুইন রাধিকা
ময়ুর বেশেতে সাজুইন রাধিকা।
কৃঞ্চ আইলা রাধার কুঞ্জে
ফুলে পাইলা ভ্রমরা
কৃঞ্চ আইলা রাধার কুঞ্জে
ফুলে পাইলা ভ্রমরা
ময়ুর বেশেতে সাজুইন রাধিকা
ময়ুর বেশেতে সাজুইন রাধিকা
ময়ুর বেশেতে সাজুইন রাধিকা
ময়ুর বেশেতে সাজুইন রাধিকা
ময়ুর বেশেতে সাজুইন রাধিকা
ময়ুর বেশেতে সাজুইন রাধিকা

নাচ শেষে সবাই আমি একটু একপাশে সরে গেলাম। হঠাৎ কেউ আমার শাড়ির আঁচল ধরে টানল। আমি ভাবলাম আহিয়ান তাই বললাম..
কি হয়েছে আপনার!
কিন্তু পরক্ষনেই টের পেলাম শাড়ি’র আঁচল নিজের দিকে টানছে। বুঝতে পারলাম এটা আহিয়ান না কারন আহিয়ান কখনো এমন করে না। আমি সাথে সাথে শাড়ি ধরে পিছনে তাকালাম। তাকিয়ে দেখি সেই ছেলেটা। আমি হা করে তাকিয়ে আছি কারণ পিছনে অহিয়ান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button