সম্পাদকীয়

তামিমকে কেন মিডিয়া ডেকে চোখের পানিতে বিদায় বলতে হবে?

লিখেছেন এস.এম.রাহমান জিকু

 বাংলাদেশের ক্রিকেট যাদের হাতে সূচিত হয়ে আজকের এই অবস্থানে তাঁদের মধ্যে অন্যতম তামিম ইকবাল খাঁন। বাংলাদেশের ক্রিকেটের রাজপুত্র যদি বলা হয়, বলতে হবে তামিম ইকবালকে। সেই তামিম ইকবাল আজকে যেভাবে বিদায় নিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে, বিষয়টি একটুও নেওয়ার মতো ছিলো না যখন টিভির স্ক্রিনে দেখছিলাম। এই বিষয়টি অত্যন্ত বিব্রতকর আমাদের জন্য। আমরা যারা তাঁর ফ্যান। আমরা যারা বাংলাদেশ ক্রিকেটের ফ্যান। আমাদের যে সুখের-দুঃখের সময়টাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট আমাদেরকে যেটা দিয়েছে, এর চাইতে বেশি আর কোনো কিছু দেয়নি। এতো আনন্দ আর কোনো কিছু দিতে পারিনি আমাদের। সেই আনন্দ যাদের কাছ থেকে পেয়েছি– বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই যে রাজপুত্র যাদেরকে বলি– মাশরাফি, তামিম, মুশফিক, রিয়াদ এবং সাকিব। এর বাইরে এখন যারা আছেন, তাদের অবদান তো অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে দীর্ঘসময় ধরে তাঁরা যে সার্ভিসটা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে তার সঠিক মূল্যায়ন করা আবশ্যক।

 

বাংলাদেশের ক্রিকেট যে সাদাকালো যুগ থেকে রঙিন যুগে পদার্পন করেছে সেই মানুষগুলোর হাত ধরে। আমিনুল ইসলাম বুলবুল, আকরাম খাঁন ও মিনহাজুল আবেদীন নান্নুদের কাজ থেকে ক্রিকেটের একটা ট্রান্সফরমেশন যে হয়েছে, তা-ও এদের হাত ধরে হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় যে, একটার পর একটা যে বিদায় ঘটতেছে। সেটা হচ্ছে এরকম বিব্রতকর করে, অপদস্থ করে এবং অপমান করে। এটা খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং খুবই লজ্জাস্কর আমাদের জন্য।

 

বাংলাদেশের ক্রিকেটে সবচাইতে অবদান যাদের বেশি, তাঁরা কি এতোটুকুও রেসপেক্ট ডিজার্ভ করে না? তাঁরা তো যথাযথ একটু সম্মাননা পেয়ে বিদায় নিতে পারে। আমি এটাও বলছি না যে– তামিম, মুশফিক, মাশরাফি, সাকিব, রিয়াদ এরা বিদায় নিবে না। তাঁরাও বিদায় নিবে। তবে মিডিয়া ডেকে চোখের পানিতে কেন বিদায় বলতে হবে?

 

কিন্তু সেই বিদায়টা, এই যে সার্ভিসটা তিনি দিয়ে গেলেন, যদি আমাদের মানুষপটের কল্পনার জগতে আসেন, আমাদের মানুষপটে যে রঙিন সময়টাতে যে তাঁদের অবদান সেটা অস্বীকার করবেন কিভাবে? বাংলাদেশ ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ফরম্যাটে সর্বোচ্চ রানের মালিক এই তামিম ইকবাল খাঁন। সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি এই তামিম ইকবালের। বাংলাদেশ ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও একমাত্র সেঞ্চুরি এই তামিম ইকবালের। এই মানুষ যখন– মানুষের সামনে কেঁদে কেঁদে এইভাবে বিদায় নেয়, তখন এটা আমরা নিতে পারি না। এটা আমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে যায়। আমরা এমনটা কখনোই দেখতে চাইনি। এটা দেখতে আমরা একেবারেই অপ্রস্তুত ছিলাম। চলমান আফগানিস্তান সিরিজের আগেরদিন তামিম ইকবাল যখন বললেন– আমার ফিটনেসের ব্যাপারটা, খেলার পরেই বুঝা যাবে। ফিটনেসটা কেমন, আছে কি নেই? এটা হয়তো এইভাবে মিডিয়ার সামনে ওপেনলি বলা ঠিক হয়নি। কিন্তু তামিমের এই কথাকে ঘিরে হাথুরুসিংহে খুবই উদ্বেগ জানিয়েছেন এবং চিল্লাচিল্লিও করেছেন। হাথুরুসিংহে এটাও বললেন– এটা কেন তামিম বললো বা ফিট না হলে সে খেলবে কেন? এই কথাগুলো বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন গণমাধ্যমের সামনে খোলাসা করেন। এটা হয়তো উনি না বললেও পারতেন। এটা ফোকাস করতে হবে কেন? এটা মিডিয়া পর্যন্ত পৌঁছাতে হবেই বা কেন? এইটুকুই হাইট থাকলে হয়তো খুব একটা অসুবিধে হতো না। একটা মানুষকে এইভাবে অপমান, অপদস্থ করে এইভাবে তাঁর একটা বিদায় নেয়া খুবই অপ্রত্যাশিত এবং খুবই দুর্ভাগ্যজনক আমাদের জন্য এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য।

 

বাংলাদেশের ক্রিকেটে যে অবদান এই মানুষগুলোর সেটা পারলে অস্বীকার করে দেখান। এই তামিমের, এই সাকিবের,  এই মাশরাফির, এই মুশফিকের এবং এই রিয়াদদের– এদের অবদানকে অস্বীকার করে দেখান। যদি আমরা না-ই করি তাহলে তাদের ইনজুরি নিয়ে এতো কথা না আসলেও পারতো। ইনজুরি নিয়ে তামিম ইকবাল খেলে নাই? ইনজুরি নিয়ে তামিম ইকবাল একহাতে ব্যাট করেছে সেটা সারা পৃথিবীবাসী সাক্ষী। ইনজুরি নিয়ে বহু মানুষ বহুরকম করে খেলে গেছে। এটা কখনোই একটা ইস্যু হতে পারে না। ভিতরে-ভিতরে, পিছনে-পিছনে যে কথা, তাঁর ব্যাক-পেইন ছিলো। ব্যাক-পেইন নিয়েও যে তিনি দেশের জন্য খেলেছেন এটা অস্বীকার করারও তো সুযোগ নেই। তাঁকে এইভাবে অপমান না করে যথাযথ সম্মাননা দিয়ে বিদায় দিতে পারতো।

 

সর্বোপরি এতোটুকুই প্রত্যাশা থাকবে, যারা টিম ম্যানেজমেন্টে আছেন বা বাংলাদেশের ক্রিকেটের এখন যারা দায়িত্বশীল আপনারা এই মানুষগুলোকে- এই সাকিব, সাকিব তো এখনো আছেন। আমি এটাও জানিনা–  ভবিষ্যতে সাকিবের যখন বিদায় হবে, সেই বিদায়টা আসলে কেমন হবে? তাঁদেরকে যথাযথ সম্মাননায় বিদায় দিতে হবে। মাশরাফি থেকে শুরু করে আজকে তামিম পর্যন্ত। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, তারপরে মুশফিক তাদের সবাইকে-সবাইকে বোর্ড সম্মাননা জানাবে এবং যথাযথ বিদায় দিবে। এতোটুকুই আমাদের অনুরোধ। এটা আমাদের দাবি এবং বাংলাদেশের কোটি ক্রিকেট প্রেমীদের দাবি। এটা আপনাদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা। আশা করি আপনারা যারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আছেন, তারা বাংলাদেশের মানুষের আবেগকে সম্মান করে ক্রিকেটের প্রতি তাদের ভালোবাসাকে সম্মান করে আশা করি তাদের এই দাবিটুকুই আপনারা পূরণ করার চেষ্টা করবেন। তাঁদেরকে যথাযথ সম্মান দিয়ে, ভুল-ত্রুটি তাঁদের কথা আমরা শুনবো মিডিয়াতে। তাঁদেরকে এক জায়গায় করে– হতে পারে সেটা স্টেডিয়ামে কিংবা অন্য কোনো ফরম্যাটে। আমরা যথাযথ ভাবে তাঁদেরকে সম্মান দিয়ে বিদায় দিবে বাংলাদেশের ক্রিকেট সেই প্রত্যাশা।

 

আমি একজন ফ্যান হিসেবে এবং দেশের একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে সেই প্রত্যাশা রাখি। আমার মনে হয় এই প্রত্যাশাটা বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষেই রাখে। সবসময়ই আকাশ নীল থাকে না সবার। সবসময়ই তামিম ভালো খেলবে তা নয়। আবার সবসময়ই সাকিব ভালো খেলবে তা-ও নয়। কিন্তু তাঁরা যে ক্রিকেট খেলছে, তাঁদের যে অবদান সেটা আমাদের অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।  অন্তত সেইটুকু কথা মাথায় রেখে, এই যথাযথ সম্মাননার আয়োজনটা বিসিবি করবে বলে আমার প্রত্যাশা রইলো এবং সেই প্রত্যাশা বাংলাদেশের কোটি মানুষের।

এস.এম.রাহমান জিকু

শিক্ষার্থী,চট্টগ্রাম কলেজ।

ঠিকানাঃ কলেজ রোড, চকবাজার, চট্টগ্রাম।

জিমেইলঃ mizanrahmanbns@gmail.com

 

Related Articles

Back to top button