ভ্রমণ কাহিনী

স্মৃতিচারণ – কাছেন রাখাইন

আমার শব্দেরা দলচ্যুত। বিক্ষিপ্তভাবে যে যার ইচ্ছে মতো চলছিল।সংঘবদ্ধ হয়নি। পারস্পরিক ভালোবাসা না পেয়ে শব্দেরা নিভৃতে বিক্ষোভে, বিক্ষিপ্তভাবে কেঁদেছিলো , বহুদিন। মনের ভিতরে নানান চিন্তন। গৃহবন্দি অনেক মাস। বিশ্বের প্রতিদিন লাশের মিছিল।কপালে কালিদাস পণ্ডিতের মেঘদূত কাব্যের মতো মেঘের ভাঁজ। মেঘগুলো ধীরে ধীরে আরো ভারী হয়ে আসছিল। এমন সময় কবি হাসান শরীফ ফোন করলেন, বান্দরবানের ভ্রমণে যেতে হবে। অফিসিয়ালি কাজগুলো অতি দ্রুত সেরে তাঁকে জানালাম,যাবো। ইতিমধ্যে ওয়াগ্ৰী নব উত্থিত কবি তপন ত্রিপুরা, বাচিকশিল্পী শ্যামলকে ফোন করে তাদেরকে প্রস্তুত থাকতে বললাম।

অতঃপর আমি, কবি হাসান শরীফ, তপন ত্রিপুরা (নব উত্থিত ওয়াগ্ৰী কবি,এই নামটা শ্যামলের প্রদত্ত),ও শ্যামল ৪ জন মিলে ২টি বাইকের বান্দরবান অভিমুখে অভিযাত্রা শুরু করলাম। যাত্রা বিরতিতে আমার হাইস্কুলের বন্ধু রাইখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছায়ামং ও বাঙ্গাহালিয়া আমার তালতো ভাই মংছেনহ্লা এর অতিথিতেয়তা গ্ৰহণ করলাম। আবার যাত্রা শুরু। বান্দরবান পৌঁছতে না পৌঁছতেই নীলপদ্ম সাহিত্য পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা সম্মানিত সভাপতি নন্দিত কবি দুলাল শর্মা দাদা একটা পর একটা ফোন। অতঃপর তো ইতিহাস।

জীবনের কিছু এমন মুহূর্ত, এমন কিছু কিছুক্ষণ এমন বর্ণাঢ্য ও সুশোভিত হবে ভাবতে পারিনি। বান্দরবান পৌঁছতে না পৌঁছতে *নীলপদ্ম সাহিত্য পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা সম্মানিত সভাপতি মহোদয় নন্দিত কবি দুলাল শর্মা দাদা ফোন করে বললেন, সোজা তাঁর কাছে যেতে। অতঃপর পর তিনি সব কিছু ব্যবস্থা করে দিলেন।

দুলাল শর্মা দাদা সন্ধ্যা ৭টা জাফরান হোটেলে আয়োজন করলেন সাহিত্য আড্ডা। চলে আসলেন জেলা পরিষদের মাননীয় সদস্য, নীলপদ্ম সাহিত্য পরিবারের প্রধান উপদেষ্টা, ম্রো জনগোষ্ঠীর জীবন ও সংস্কৃতি এবং জ্যোৎস্না শিকারে কাব্যগ্রন্থে প্রণেতা, ম্রো সমাজের স্বপ্নদ্রষ্টা কবি ও গবেষক সিংইয়াং ম্রো।

অতপর চলে এলেন,বৈশিষ্ট্য সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব দ্রোহী কবি ও বাচিক শিল্পী,যাঁর বলিষ্ট কণ্ঠস্বর হাজার হাজার মানুষকে উজ্জীবিত করে,যাঁর বিন্দু বিন্দু কথা সিন্ধুকের সমতুল্য,নীলপদ্ম সাহিত্য পরিবারের উপদেষ্টা জলিমং দাদা।উপস্থিত হলেন,উক্ত সাহিত্য পরিবারের উপদেষ্টা মামুন ভাই।আরো চলে আসলেন,আমার বাল্যবন্ধু উন্নয়নকর্মী মংহ্লাছিং (মং)।

এই কিছুক্ষণ আমার জীবনে অবিস্মরণীয় থাকবে অনন্তকাল ধরে।

Back to top button