ধর্মের জ্ঞানপ্রভুর বাণীফিচার

হেদায়েত

তবিনুর : কিশোরগঞ্জ, সদর

হেদায়েত কি?

“হেদায়েত ” হুট করে পাওয়া কোনো একদিনের বিষয় নয়।
এর জন্য আয়োজন করতে হয়।

> বিশাল আয়োজন
> মিথ্যা পরিহারের আয়োজন
> শয়তান কে হারানোর আয়োজন
> প্রচন্ড ধৈর্য্য পরিহারের আয়োজন।

বেশ কয়েকদিন কেটে যাবে এইভাবেই,,,,,
তারপর নফস আর শয়তান হেরে যাবে!
হারবে। সালাতে মনোযোগ আসবে।
মিথ্যা ভাবতেই গা শিউরে উঠবে!
প্রচন্ড ধৈর্য্য এসে যাবে।
কেন বলেন তো?
কারণ আপনি তো প্রথম ধাপে আল্লাহর দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তাই স্বয়ং আল্লাহ আপনার দ্রুত দিকে এগিয়ে এসেছেন। তাই শুধু হেদায়েত এর অপেক্ষায় বসে থাকলে হবে না। চেষ্টা করতে হবে।

” যে আল্লাহর দিকে হেঁটে যান আল্লাহ তার দিকে দৌঁড়ে যান। ”
যাকে বলে ” হেদায়েত “।

বেশি বেশি দাওয়াত দেওয়া :- দ্বীনে ফেরার পর দ্বীনের ওপর অবিচলতার জন্য দ্বীনের দাওয়াত দিতে থাকা জরুরি। কেননা আমরা যদি সত্যের দাওয়াত না দিই, ইসলামের সঠিক দাওয়াতের প্রচার না করি, তাহলে বাতিলের দাওয়াত আমাদের সামনে চলে আসবে। তখন বাতিল আমাদের গোমরাহির পথে ডাকতে থাকবে।এই যে আমরা যারা কলেজ – ভার্সিটিতে পড়ছি বা আমাদেরকে সহশিক্ষার পরিবেশ থাকতে হচ্ছে, এই পরিবেশ আমরা যদি আমাদের আশেপাশের মানুষ গুলোকে দ্বীনের দিকে দাওয়াত নাই দিই, তাহলে তারাই উলটো আমাদেরকে দ্বীন ছাড়ার দিকে আহ্বান জানাবে। শয়তান তাদের ওপর সওয়াব হয়ে আমাদেরকে ধোঁকায় ফেলে দেবে।

আল্লাহ মুমিনের অভিভাবক। তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোতে ( হেদায়েতের পথে) নিয়ে আসেন। আর যারা কুফরী করে তাদের অভিভাবক শয়তান, তারা তাদেরকে আলো ( হেদায়েত) থেকে বের করে অন্ধকারে ( গোমরাহিতে) নিয়ে যায়। তারা সকলেই অগ্নিবাসী। চিরকার তারা সেখানেই থাকবে। ( বাকারা, ২৫৭)

নিজের দ্বীনদারিতে সন্তুষ্ট হয়ে যাওয়া :- মনে রাখতে হবে, দ্বীনে এসে দ্বীন পালন করতে শুরু দেওয়াটাই শেষ নয়। বরং এখান থেকে যাত্রার সুচনা মাত্র। মৃত্যুর আগ মুহুর্ত পর্যন্ত এই দ্বীনের ওপর আমাকে অটল – অবিচল থাকতে হবে। মৃত্যুটা ঈমানের সাথে না হলে সারা জীবনের এসব আমল কোনো কাজেই আসবে না। মুমিনের জন্য তার ঈমান- আমল মহা মুল্যবান সম্পদ। এই সম্পদকে সংরক্ষণের সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে। নিজের দ্বীনকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে।

আল্লাহ তা’য়ালা কাকে হেদায়েত দেন : – এখন কথা হচ্ছে আল্লাহ তা’য়ালা এই হেদায়েত কাকে দেন? আল্লাহ তক’য়ালার নিকট যদি কেউ হেদায়েত না চায়, তার অন্তর যদি হেদায়েত প্রত্যাশী না হয়, তাহলে আল্লাহ তা’য়ালা তাকে হেদায়েত দেবেন না। কেননা হেদায়েত লাভের জন্য হেদায়েত চাইতে হয়, আল্লাহ তা’য়ালার নিকট প্রার্থনা করতে হয়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা পবিত্র কুরআন মাজিদে হেদায়েতপ্রাপ্তির মাধ্যমগুলো আমাদেরকে শিখিয়েছেন। মানুষ কিভাবে হেদায়েত পাবে।

হেদায়েত প্রকাশ করা ও শুকরিয়া আদায় করা : – আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের হেদায়েতের পথে এনেছেন, দ্বীনের বুঝ দান করেছেন —- এটা আল্লাহ তা’য়ালা অনেক বড় নেয়ামত। সুতরাং এর জন্য আল্লাহ তা’য়ালার নিকট শুকরিয়া আদায় করা। শুকরিয়া আদায়ের দ্বারা আল্লাহ বান্দার নেয়ামতকে বাড়িয়ে দেন। আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেন,,,
‘ যদি তোমার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো, তবে তোমাদেরকে আরও দেবো এবং যদি অকৃতজ্ঞ হও তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি হবে কঠোর।’

এ জন্য হেদায়াতপ্রাপ্তিকে নেয়ামত মনে করতে হবে এবং অনেক বেশি পরিমাণে আল্লাহ তা’য়ালার নিকট কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে হবে। সাথে সাথে নিজের হেদায়েতকে প্রকাশ করতে হবে।

Related Articles

Back to top button