ছড়া

স্বাধীনতা – মাহফুজ রুমান খান 

সিমান্ত খুবই দুরন্ত ছেলে। শেষ সবেমাত্র ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে।আপু নাইমা থাকে তার নানি বাড়িতে যেতে  প্রলোভন দেখাই। তার নানু বাড়ি অনেক সুন্দর সুন্দর দৃশ্য আছে। সীমান্ত ছোট থাকতে একবার নাইমা তার মার সাথে যায় তাদের নানু বাড়িতে। সে সুন্দর সুন্দর দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়। বিশাল এক নদী রয়েছে। দুপুরবেলা সেই নদীতে গোসল করেছিল। চারিদিকে সবুজ বন তারি মাঝে এই নদী এক মনমুগ্ধ দৃশ্য। কুষ্ঠ রোগীও এই মনোমুগ্ধ দৃশ্য দেখে সুস্থ হয়ে উঠবে। তাই সে তার ভাই সীমান্তকে বলে এইবার শীতের ছুটিতে মার কাছে যেন  বাইনা ধরে যেন নানু বাড়ি যাওয়ার জন্য। সীমান্ত যেতে চাই তার নানী বাড়িতে। কেননা সে কোনদিন নদীতে গোসল করে নাই। আর এরকম সুন্দরময় দৃশ্য সে বই, টেলিভিশন  ছাড়া দেখে নাই। বোনের কথা মত সে মার কাছে আবদার করল।এইবার শীতের ছুটিতে যেন তারা নানু বাড়িতে বেড়াতে যায়। মা সালেহা বেগম নিজের জন্ম ভূমি তে যাবার জন্য ইচ্ছে করে। সিমন্তর সমবয়সী ছেলেরা তো মা-বাবার সাথে জাফলং কক্সবাজার বেড়ায়। তিনি সিমান্ত নিয়ে যায় নাই ঘুরতে কোনো দিন । তাই এই আবদার সিমান্তর পুরণ করবে।পরিকল্পনা মত তারা নানু বাড়ি যাবার জন্য যাত্রা শুরু করে। নানু বাড়িতে আসতে আসতে রাত হয়ে যায়। তো মনে মনে ডাইভারের প্রতি ক্ষোভ  প্রকাশ করে।সে চেয়েছিল গাড়ি তে চড়ে পুরো  গ্রামকে    দেখতে। রাত হওয়ার  যাওয়ার জন্য তেমন দেখতে পেল না। রাতের জোনাকি দেখে তার মন মুগ্ধ হয়ে যায়। মনে মনে যে আপুকে ধন্যবাদ দিতে লাগলো। আপুর জন্যই সেই এই দৃশ্য দেখতে পেল। তারা নানুর বাড়িতে এসে নানা নানিকে সালাম নিবেদন করে।ফ্রেশ হয়ে খাবার খেয়ে নাইমা আর সিমান্ত নানুর কাছে গল্প শুনতে আবদার করে ।। তারা নানুর  ছেলেবেলার  গল্প  শুনতে চাই লো । নানিও তার ছেলেবেলার গল্প বলতে শুরু করলো।নানি বলতে থাকলেন। আমার যখন বয়স ১৩ তখন দেশের অবস্থা ভালো না। দেশে যুদ্ধ চলছিল। আমরা ভয়ে ভয়ে থাকতাম। ঘর থেকে মা বের হত দিত না। ম্যালিটারির উৎপাত বেশি ছিল।তাই আমরা ঘরের ভেতরে লুকিয়ে থাকতাম মাটির নিচে গর্ত করে।বাজান আমাদের ঘরে বিশাল এক গর্ত করেছিল।আর মা কে বলে দিয়েছিল যে ম্যালিটারি আসলে যেন আমাদের নিয়ে গর্ত ভেতরে লুকিয়ে থাকে।বাজান তিনি গঞ্জে ব্যাবসা করেন। একদিন বাজান দুপুরের ভাত নেয় নি।মা আমাকে দিয়ে পাঠান দিয়ে আসতে। আমি ভয়ে সারাপথ যায়।কোনো ম্যালিরারি পেলাম না। কিন্তু আসার সময় টস টস গুলির শব্দ শুনতে পেলাম রহিম চাচার বাড়িতে। রহিম চাচার বাড়িতে মুক্তি বাহিনী থাকত।  সে খানে তারা হামলা চালিয়েছে। এখন ভয়ে আমার পা খাপতে ছে।কীভাবে বাড়িতে যাব।চাচার বাড়ি পেরিয়ে আমাদের বাড়িতে যাওয়া লাগে।তখন মনে সাহস নিয়ে পুকুরে নামি লুকিয়ে। রহিম চাচার বিশাল পুকুর। শিতের সময় পানি কম থাকে। আমি পুকুরের পারের আড়ালে নুয়ে নুয়ে বাড়িতে যায়।বাড়িতে এসে দেখেই মা কান্না করছে ছোট ভাই কে জড়িয়ে কান্না করতেছে।আর বলতে থাকে আমার মেয়ে নেই। তাকে নিয়ে গোছে। আমাকে মা দেখে জড়িয়ে ধরে কান্না করতেছে। আমাদের দুজন কে নিয়ে মা গর্তের ভেতর নিয়ে যায়। মা আমাকে আর ভাই কে রেখে যায় আর বলে তোরা বস আমি দেখে আসি তারা এদিকে আসে কি না। আমি ভাই কে জড়িয়ে ধরে রাখি। ভাই কাশতে ছেয়ে অনেক।আমি ভাই এর মূখে হাত রেখে চাপ দিয়ে ধরে রাখি যাতে শব্দ না করে। কিছুখন পরে মা এসে আমার চুটিয়ে নেয়।আর আমাকে বকতে থাকে।ভাই জুড়ে জুড়ে শ্বাস নিতে থাকে।তার চোখ মূখ লাল হয়ে যায়।আরেকটু হলে মরে যেতাম আপু, ভাই বলল।তার দশ-পনেরো দিন পর শুনতে পায় স্বাধীনতার ঘোষণা। আমাদের গ্রামে তখন উৎসব শুরু হয়। স্বাধীনতার কি যে আনন্দ তা উপলব্ধি করলাম।বালু উড়ি আমরা স্বাধীনতা উপভোগ করলান।সারা গ্রামের পরেগেল আনন্দের ধুম।

Related Articles

Back to top button